অটেনবি বার্ড অবজার্ভেটরি
কাজী জেনিফার আজমিরী
সৈকতপাখি ধরার নানা কৌশল শিখলাম সেখানে; আবার হাঁস ধরার নানা পদ্ধতিও জানলাম।
গত শীতে আমরা ৪৪টি পরিযায়ী হাঁসের গায়ে ট্রান্সমিটার বসিয়ে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছি। বাংলাদেশ বন বিভাগ ও সুইডেনের লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এ কাজ করেছে আই.ইউ.সি.এন-বাংলাদেশ। লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জোনাস ওয়াল্ডারস্টর্ম ও উলফ অট্টোসন আমাদের কাজে সহযোগিতা করতে এসেছিলেন বাংলাদেশে। টাঙ্গুয়া হাওরে তাঁদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেলাম আমরা।

তারপর প্রফেসর জোনাস ওয়াল্ডারস্টর্ম আমাদের সুইডেন যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন। সেপ্টেম্বর মাসে সীমান্ত দিপু, সাকিব ও আমি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিতে সুইডেনের অটেনবি বার্ড অবজার্ভেটরিতে গেলাম। বাল্টিক সাগরে অৃবস্থিত সুইডেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ ওল্যান্ডের সর্ব-দক্ষিণে প্রাচীন একটি লাইটহাউসের পাশে রয়েছে অবজার্ভেটরিটি।
অবজার্ভেটরিতে আমরা ছিলাম মাত্র সাত দিন। সৈকতপাখি ধরার নানা কৌশল শিখলাম সেখানে; আবার হাঁস ধরার নানা পদ্ধতিও জানলাম। প্রতিদিন অনেক মানুষ এখানে আসে পাখি দেখতে। আমরাও ৬৮ প্রজাতির পাখি দেখৃলাম। এর বেশির ভাগই আমার জন্য নতুন ছিল।
বার্ডলাইফ-সুইডেনের মাধ্যমে পরিচালিত এই অবজার্ভেটরিতে পাখির পরিযায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, বার্ড-ফ্লু ও অন্যান্য প্রাণী-রোগ নিয়ে গবেষণা হয়। বছরে গড়ে ২৫,০০০ পাখি ধরা হয় এখানে; এ পর্যন্ত ১০ লক্ষের বেশি পাখির পায়ে রিং পরানো হয়েছে। নানা দেশের বার্ড-রিঙ্গার এখানে আসে। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, রাশিয়া, লিথুয়েনিয়া, জর্জিয়া, ইউক্রেন, ফিনল্যান্ড, মঙ্গোলিয়া ও নাইজেরিয়াসহ অনেক দেশের গবেষকের সাক্ষাৎ মিলল এখানে। তাঁদের গবেষণা নিয়ে কিছু প্রেজেন্টেশন দেখলাম।
অটেনবি থেকে ফিরে আমরা দুদিনের জন্য কালমার গেলাম। কালমার খুব ছোট একটি শহর। এখানেই রয়েছে লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ডিপার্টমেন্টটি দেখালেন প্রফেসর জোনাস ওয়াল্ডারস্টর্ম। আমাদের সাথে টাঙ্গুয়া হাওরে তাঁর কাজের স্মৃতি রোমন্থন করলেন প্রফেসর জোনাস। তৃপ্ত হৃদয়ে আমরা দেশে ফেরার জন্য তৈরি হলাম।



